শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বাংলাদেশ

 

 

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ইতিহাস

যে ভূখন্ডকে কেন্দ্র করে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে তার ভৌগলিক সীমানা মূলত আবহমান বাংলার প্রকৃতিক ও ভৌগলিক সীমারেখার  একটি অংশ। ড. নিহাররন্জন রায়ের মতে, প্রাচীন কালে বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল ও জনপদসমুহ সমতট, বঙ্গ, পুন্ড, বরেন্দ্র, হরিকেল, তাম্রলিপি, নামে বিভক্ত ছিল। প্রাচীনকালে গৌড়ধিপতি শশাঙ্কের (৬০৬-৬১৯ খ্রি.) স্বাধীন স্বার্বভৌম সাম্রাজ্যের মাঝে বাংলার ভৌগলিক সীমার চিত্র জানা যায়।

মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে শাহে বাংলা বলে খ্যাত সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার বিভিন্ন জনপদের স্বাতন্ত্র্য ঘুচিয়ে এক খন্ড ভৌগলিক রাষ্ট্রীয় সত্তায় আবদ্ধ করেন। মোগল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৬) শাসনকালে সমগ্র বাংলা ‘সুবাহ বাংলা’ নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

আধুনিক যুগের সূচনালগ্নে বাংলাকে বিহার, উড়িষ্যার সাথে একিভূত করে ইষ্ট ইন্ডিয়া কম্পানির গভর্নর জেনারেলরা শাসন করতো। ১৮৫৪ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬) নতুন বাংলা প্রদেশের সূচনা করেন। এ সময় বাংলা প্রদেশের অর্ন্তভূক্ত উপরিভাগ ছিল বেঙ্গল প্রপার, বিহার, উড়িষ্যা ও ছোট নাগপুর। ঐ সময় প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে বাংলা প্রদেশের ভৌগলিক সীমানা ছিল হিমালয় ও তার পাদদেশে নেপাল , ভূটান পর্যন্ত।

বাংলা প্রদেশ কে ব্রিটিশ সরকার ১৮৭০ সালে আবার সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলা থেকে কাছর ও সিলেটকে আলাদা করে আসাম নামে নতুন প্রদেশ ঘোষনা করা হয়। ১৯০৫ সালে ইতিহাস খ্যাত বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ইংরেজরা পূর্ব বঙ্গ ও আসাম কে একটি প্রদেশ ও পশ্চিম বঙ্গকে পৃখক প্রদেশ হিসেবে ঘোষনা করে। বাংলা ভূখন্ডের পূর্ব অংশই ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন স্বার্বভৗমরুপে আত্মপ্রকাশ করে, যার নাম হয় বাংলাদেশ।



রাজনীতি কি ?

 


রাজনীতি কি ?


রাজনীতি বা রাষ্ট্রনীতি বা রাজবুদ্ধি হলো দলীয় বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বর্গের মধ্যে ক্ষমতার সর্ম্পকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহন বিষয়ক কর্মকান্ডের সমষ্টি। রাজনীতির একাডেমিক অধ্যায়ন কে রাজনীতিবিজ্ঞান বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে। রাষ্ট্রবিজ্ঞনের কাজ হলো রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করা।

রাজনীতি একটি বহুমুখী শব্দ। এটি আপোষের ও অহিংস রাজনৈতিক  সমধান প্রসঙ্গে ইতিবাচক অর্থে অথবা সরকার বিষয়ক বিজ্ঞান বা কলা হিসেবে বিশদভাবে ব্যবহিত হতে পারে , কিন্তু পাশাপাশি এটি প্রায়শই একটি নেতিবাচক অর্থও বহন করে। 


রাজনৈতিক ব্যবস্থা হল কোন কাঠামো যা কোন সমাজের মধ্যকার গ্রহনযোগ্য রাজনৈতিক পদ্ধতিসমুহকে সজ্ঞায়িত করে। রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় প্রাথমিক প্রচীন যুগে, যেখানে প্লেটোর রিপাবলিক, এরিষ্টটলের দ্যা পলিটিস, চাণক্যর অর্থশাস্ত্র ও চানক্য নীতি এবং কনফুুুুসিয়াসের লেখার ন্যায় দিগন্ত উন্মোচনকারী কাজগুলো পাওয়া যায়।

সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রাষ্ট্র কি ?


 রাষ্ট্র কি ?

রাষ্ট্র মানব সমাজের একটি সর্বোচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রাষ্টবিজ্ঞানীদের মতে, মানব সমাজের আদি সংগঠন পরিবার সম্প্রসারিত ও বিবর্তিত হয়ে রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র হলো একটি রাজনৈতিক ও ভৌগলিক প্রতিষ্ঠান। মানুষ নিরাপত্তার প্রয়োজনে ন্যায়ভিত্তিক নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। রাষ্ট্র মানব জীবনের একটি অত্যাবশ্যক প্রতিষ্ঠান, ব্যাক্তিমাত্রই কোন না কোন রাষ্ট্রের সদস্য। রাষ্ট্র ব্যাতীত মানব জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ অসম্ভব।


রাষ্ট্রের সংজ্ঞা

মূলত প্লেটো ও এরিষ্টটলের সময় থেকেই গ্রীসে সংগঠিত রাজনৈতিক সমাজ সম্পর্কে আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। গ্রিকগণ রাষ্ট্র বলতে পলিস ( polis ) শব্দটি ব্যবহার করত। রোমানগণ রাষ্ট্র বলতে  ( civitas ) ব্যবহার করত। ইংরেজি  ( state ) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ( status )  থেকে এসেছে। ‍Status শব্দটির অর্থ স্থির বা স্থিতিশীল। সুতরাং একটি স্থিতিশীল বা স্থায়ী অবস্থা বোঝানোর জন্য অতীতে Status ব্যবহিত হতো। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে  রাষ্ট্র রাষ্ট্র শব্দটি একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক অর্থে ব্যবহিত হয়। আধুনিক ষোড়শ শতাব্দিতে সর্বোপ্রথম রাষ্ট্র শব্দটি ব্যবহার করেন বিশ্বখ্যত ইতালীয় চিন্তাবিদ নিকোলো মেকিয়াভেলি। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিষ্টটলের বিখ্যাত গ্রন্থ দ্যা পলিটিসে বলেন “ রাষ্ট্র হলো কতিপয় পরিবার ও গ্রামের পরিবারের সমষ্টি যার উদ্দেশ্য হলো পরিপূর্ণ ও স্বনির্ভর জীবন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বলেন “ কোন নির্দিষ্ট ভূখন্ডে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।

রাষ্ট্রের পূর্ণাজ্ঞ  ও গ্রহনযোগ্য সংজ্ঞা দিয়েছেন অধ্যাপক গার্নার। তার মতে , রাষ্ট্র হলো কম বা বেশি লোকের দ্বারা গঠিত এমন এক জনসমষ্টি, যারা একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, যারা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রন হতে স্বাধীন এবং যার একটি সুসংগঠিত সরকার আছে , যার প্রতি অধিকাংশ অধিবাসী স্বভাবজাত আনুগত্য স্বীকার করে।

রাষ্ট্র সমন্ধে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতামতের ভিত্তিতে বলা যায় যে , রাষ্ট্র হলো এমন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেখানে একটি সংগঠিত জনসমষ্টি কোন নির্দিষ্ট ভূখন্ডে স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকারের অধীনে স্বায়ীভাবে বসবাস করে।